ধর্ষণের জন্য,শিক্ষা দিতে’ গিয়ে অনন্ত জলিল দুষলেন নারীর পোশাককে

0
146

নারীর পোশাকই দায়ী বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। ফেসবুকে শেয়ার করা এক ভিডিওতে অনন্ত জলিল বলেন, শালীন পোশাক পরা নারী কখনোই ধর্ষণের শিকার হয় না। পোশাক ভালো না হলে তার শরীর-ফিগার দেখে বাজে স্বভাবের লোকজন ধর্ষণের উস্কানি পায়।

ভিডিওটিতে অনন্ত জলিলের এমন মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে থাকে।

নিজের এমন মন্তব্য জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অনন্ত।

তিনি বলেন, ‘গতকালের ভিডিওতে আমি মূলত মেয়েদেরকে শালীনতা বজায় রাখার কথা বলতে চেয়েছি। অনেকেই বিষয়টিকে পজিটিভভাবে নিয়েছেন, আবার অনেকেই নেগেটিভভাবে নিয়েছেন। তবে, মন্তব্য নিয়ে আমি কোন বিতর্কে জড়াতে চাই না। কেউ ভুল বুঝে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’

সমালোচনার জের ধরেই ভিডিওটি সরিয়ে নেন অনন্ত জলিল। পরে মন্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সম্পাদনা করে পোস্ট করে তার ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না, তাই আমি উক্ত বিষয়টি কারেকশন করে দিলাম। কেউ ভুল বুঝে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’ 

অনন্ত আরও লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প কিছু নেই। পরিবারের দায়িত্ব নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। নারী-পুরুষ উভয়েই পরিবার ও সমাজের জন্য অনিবার্য। পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্য যেমন নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পরিকল্পনা, ত্যাগ ও সংযমের প্রয়োজন। একজনকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কেবল পুরুষ কিংবা নারীর পক্ষে বেশিদূর এগোনো সম্ভব নয়। তাই, আমরা চাই নারী-পুরুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতামূলক সম্পর্ক, শ্রদ্ধা

ই চিত্রনায়ক বলছেন, “শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে ছেলে যাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা-ভাবনা আসে, তারাও কোনও এই ধরনের চিন্তা করবে না। শ্রদ্ধার সঙ্গে তোমার দিকে তাকাবে। এবং তাকিয়ে থাকার পর চোখ নিচের দিকে নিয়ে তোমাকে সম্মান জানাবে।”

তার এমন মন্তব্য নিয়ে ফেইসবুক এখন সমালোচনায় মুখর।

জাস্টিন অ্যান্থনি নামের একটি আইডি থেকে ওই ভিডিওতে একজন মন্তব্য করে জানতে চেয়েছেন- “মাদ্রাসার যে ছাত্রটাকে বলাৎকার (ধর্ষণ) করা হয়েছে, তার পোশাকে কি প্রবলেম ছিল? চতুর্থ শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়া বাচ্চা মেয়েগুলোর পোশাকে কি অনেক সমস্যা ছিল?”

ভায়োলেট হালদার নামের আরেক আইডি থেকে আরেকজন লিখেছেন, “৩/৪ মাস বয়সী শিশু এবং বৃদ্ধা নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, এর জন্য পোশাক কেমন করে দায়ী হতে পারে? ছেলে শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তার জন্যও কি পোশাক দায়ী? পোশাকের চেয়েও ধর্ষণের ইতিহাস অনেক পুরাতন। আপনি আপনার মগজে শান দিন।”

নারীরা কী ধরনের ‘শালীন’ পোশাক পরবেন তার একটি ব্যবস্থাপত্রও সোয়া ৬ মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় দিয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে অভিনেতা বনে যাওয়া অনন্ত জলিল।

“মডার্ন ড্রেস যেটা হবে, সেটাতে তোমার ফেইসটা দেখা যাবে, যেটা আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দিয়েছেন। কিন্তু বডিতে শালীন ড্রেস পরতে হবে। যে ড্রেসটা পরলে তোমাকে ভালো লাগবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here